Elon Musk : অনুপ্রেরণার আঁধার, সময়ের সেরা প্রযুক্তিবিদ

 

পৃথিবীতে যেন আবিষ্কার ও কর্মচাঞ্চল্যের এক মহোৎসব চলছে। প্রথাগত ধারণার বাইরে এসে, যারা চমক লাগানো সব আইডিয়া দিয়ে পৃথিবীর গতিবিধিই পাল্টে ফেলছেন, তাদেরই একজন এলন মাস্ক ।

দক্ষিণ আফ্রিকাতে জন্ম, মাস্কের বাবা ছিলেন একজন ইঞ্জিনিয়ার। মাত্র ১০ বছর বয়সী ইন্ট্রোভার্ট টাইপের ছেলেটি নিজেই আবিষ্কার করেন, কম্পিউটারের প্রতি তার বেশ ঝোঁক রয়েছে। তাই নিজে নিজেই শিখে নেন প্রোগ্রামিং। এর সুফলও পাওয়া শুরু করেন মাত্র ১২ বছর বয়সেই। হ্যাঁ, খুদে প্রতিভা সম্পন্ন এলন তৈরি করেন কম্পিউটার গেইম ‘ব্লাস্টার’।  নিজের বানানো গেইম বিক্রি করে তার জীবনের প্রথম আয় ছিল ৫০০ ডলার।

 

তবে শেখার আগ্রহ থাকলেও, স্কুলের গণ্ডি পেরোতে তাঁকে বেশ সংগ্রামই করতে হয়। শিক্ষকদের কাছ থেকে বার বার নিগৃহীত মাস্ক যখন স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ডিগ্রিতে অ্যাডমিশন নেন, তার ঠিক ২ দিন পরই সেখান থেকে তিনি বাদ পরে যান। বাঁধা যেন পিছুই ছাড়ছে না তাঁর, তবুও তিনি হতাশ হননি ।

 

হতাশা এবং হাজারো বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করে, তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় এবং দ্রুততম মানি ট্রান্সফারিং সিস্টেম ‘PayPal’ । সেখান থেকেও পরবর্তীতে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। এরপরও তিনি পিছপা হননি। শুরু করেন নতুন জীবন, গড়ে তোলেন বই পড়ার অভ্যাস ।

পরবর্তীতে তিনি রকেট ও ইলেকট্রিক কার নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। হঠাৎ উপলব্ধি করলেন, রকেটের মূল্য অত্যধিক বেশি।  সিদ্ধান্ত নিলেন, নিজের টাকায় রকেট বানাবেন এবং প্রতিষ্ঠা করলেন ‘SpaceX’ । যখন তিনি প্রথম তিনটি রকেট নিক্ষেপে ব্যর্থ হন ,  ঠিক সে সময় আবিষ্কার করেন ইলেক্ট্রিক কার এবং নাম দেন ‘Tesla’।

 

পরবর্তীতে ‘Tesla’ নামে ইলেক্ট্রিক কার কোম্পানিই চালু করলেন । ‘Tesla’ যখন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে, ঠিক তখনই তিনি বিনিয়োগ  পেলেন।  বর্তমানে তিনি একজন সফল প্রযুক্তিবিদ এবং $20.4 বিলিয়ন সম্পদের মালিক ।

 

এলনের জীবনী থেকে এটা স্পষ্ট যে, কোনো সমস্যা আপনাকে নাকানি – চুবানি না খাওয়ালে সেই সমস্যা আসলে তেমন সমস্যাই না। আশেপাশের সমস্যা, ঝামেলা মাথায় নিয়ে বসে থাকলে জীবনের আসল গন্তব্যে কখনোই পৌঁছতে পারবেন না।

 

 

আমাদের মাঝে অনেকেই আছে, যারা সামান্য ঝামেলাকে বৃহৎ আকার ভেবে সামনে এগোতে চায় না। জীবনে সাফল্য পেতে আপনাকে ধৈর্য সহকারে পথ পাড়ি দিতে হবে। মনোবল স্থির করে, দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে এই গন্তব্যে এগোতে হবে যে, ক্যারিয়ারে কিছু একটা করতেই হবে।

 

আমরা যে সময়কে অবসর বলি, সেটা আসলে আমাদের জন্য লার্নিং পিরিয়ড। তাই যেটুকু সময় শুয়ে বসে পার করে দিচ্ছেন, সে সময়ে একজন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মানুষের উচিত নতুন কিছু শেখা।

গল্পের সারমর্মঃ

আবিষ্কারের নেশা এবং শেখার প্রবল আগ্রহ আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে।  

ক্যারিয়ার দিক-নির্দেশনা এবং জব রিলেটেড তথ্য পেতে ক্লিক করুন। 

 

লিখেছেনঃ মুশফিকুর রহমান